অর্থনৈতিক রিপোর্টার : প্রকৃত আয় যেভাবেই হোক প্রতি বছরই দেশে কোটিপতির সংখ্যা বাড়ছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের গত ৭ বছরে দেশে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭৫ হাজার। গড়ে প্রতি বছর কোটিপতি বেড়েছে ১০ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রমতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সকল তফসিলি ব্যাংকের কাছ থেকে প্রাপ্ত হিসাবের ভিত্তিতে যে প্রতিবেদন তৈরি করে সেটাই কোটিপতির সংখ্যা নির্ধারণের নির্ভরযোগ্য ভিত্তি। তবে এটা শুধু বৈধ বা রেকর্ডেড কোটিপতির সংখ্যা। আন্-রেকর্ডেড বা অবৈধ কোটিপতির সংখ্যা আরও অনেক বেশি। সূত্রমতে, কোটিপতিদের এ তথ্য তৈরি হয়েছে সরকারি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋন গ্রহনের ভিত্তিতে। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে মোট কোটিপতির সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৩৬৯ জন। এর মধ্যে এক কোটি টাকার ঊর্ধ্বে আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ১৬৩ জন এবং এক কোটি টাকার ঊর্ধ্বে ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার ২০৬ জন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে। এরপর গত সাত (২০০৯-২০১৫) বছরে অর্থাৎ ২০১৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে মোট কোটিপতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৩৬১ জনে। অর্থাৎ এই সাত বছরে কোটিপতি বেড়েছে ৭৪ হাজার ৯৯২ জন। এর মধ্যে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৫৯ হাজার ৭০০ জন এবং ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ৫৯ হাজার ৬৬১ জন। চলতি বছরের শুরুতে (২৫ জানুয়ারি, ২০১৬) অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিগত ৫ বছরে (ডিসেম্বর ২০১১- সেপ্টেম্বর ২০১৫) দেশে কোটি টাকার ব্যাংক হিসাবধারীর একটা পরিসংখ্যান তুলে ধরেছিলেন। এই পরিসংখ্যানে কোটি টাকা আমানতকারী ও কোটি টাকা ঋণগ্রহীতার সম্মিলিত সংখ্যা প্রকাশ করেন তিনি। সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দেশে মোট কোটিপতির সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৪ হাজার ২৬৫ জন। সে হিসাবে তিন মাসে দেশে মোট কোটিপতি বেড়েছে ৫ হাজার ৯৬ জন। প্রাপ্ত তথ্য ও কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধির চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ৫৪ হাজার ২২২ জন। এর মধ্যে আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৩০ হাজার ৪৭৭ জন এবং ঋণগ্রহীতার সংখ্যা বেড়েছে ২৩ হাজার ৭৪৫ জন। অপরদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীর জোট সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের দুই বছরে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ২০ হাজার ৭৭০ জন। একক বছর হিসাবে সবচেয়ে বেশি কোটিপতি বেড়েছে ২০১০ সালে। ওই বছর কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ১৩ হাজার ৮৯২ জন। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৮ সালে কোটি টাকা আমানতকারীর তুলনায় কোটি টাকা ঋণগ্রহীতার সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার বেশি ছিল। ২০১২ সালে এই ব্যবধান কমে ৩ হাজারে এসে দাঁড়ায়। কিন্তু ২০১৩ সাল থেকে কোটি টাকা আমানতকারী ও কোটি টাকা ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা প্রায় সমান সংখ্যক পর্যায়ে চলে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে কোটিপতিদের মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ৭৭ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। এটা তখন ছিল ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের ৩১ শতাংশ। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে কোটিপতিদের মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ৪৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা। এটা ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতের ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে কোটিপতিদের মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা। এটা ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতের ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে কোটিপতিদের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২২ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা। এটা তখন ছিল ব্যাংকিং খাতে মোট বিতরণকৃত ঋণের ৬২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে কোটিপতিদের মোট ঋণ গ্রহণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। এটা ব্যাংকিং খাতে মোট বিতরণকৃত ঋণের ৬৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে কোটিপতিদের মোট ঋণ গ্রহণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা। এটা ব্যাংকিং খাতে মোট বিতরণকৃত ঋণের ৭০ দশমিক ৮৪ শতাংশ। |

৭ বছরে দেশে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭৫ হাজার।
প্রতিবেদক:-
ডেইলি বাংলা বাজার
–












