কাল সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার ‘ফলোআপ বৈঠক’ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেছেন, ‘প্রায় তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই পদক্ষেপ ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতি জোরদার করছে। প্রতিটি সামরিক সরবরাহ লাইন ব্যাহত করা, প্রতিটি রুবল আটকে দেওয়া এবং পুতিনের আগ্রাসনকে সহায়তাকারীদের উন্মোচিত করা ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তির দিকে একটি পদক্ষেপ।’
যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো নতুন ক্ষমতা ব্যবহার করে যুদ্ধকে সমর্থনকারী বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে কিরগিজস্তানভিত্তিক ওজেএসসি কেরেমেত ব্যাংকও রয়েছে।এ ছাড়া ‘নতুন’ করে ১৪ জন ক্লেপটোক্র্যাটকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার অন্যতম ধনী ব্যক্তি রোমান ট্রোটসেংকো।

কাল সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার ‘ফলোআপ বৈঠক’
পাশাপাশি রাশিয়ার কথিত ‘ছায়া নৌবহর’কেও আরো নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। ৪০টি জাহাজকে নতুন করে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৩টিতে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেছেন, রাশিয়া শত শত জাহাজ নিয়ে একটি বড় ‘ছায়া নৌবহর’ পরিচালনা করছে, যাতে পশ্চিমাদেশগুলোর তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়ানো যায়।
এই ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন।এই বৈঠকের লক্ষ্য হলো ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ‘সেতুবন্ধ’ তৈরি করা, যাতে যুদ্ধের সমাপ্তি চুক্তির ক্ষেত্রে কিয়েভের জন্য আঞ্চলিক ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা যায়।
তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি ও ট্রাম্পের মধ্যে সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বিরোধের প্রেক্ষাপটে এই কাজ আরো চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। ট্রাম্প জেলেনস্কিকে ‘একজন স্বৈরশাসক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং রাশিয়ার সঙ্গে ‘সাফল্যমূলক আলোচনা’র কথা বলেছেন।
ইউরোপীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইউক্রেন কোনো অসম চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়, তবে তা পুতিনের বিজয়ের দাবি নিশ্চিত করবে এবং সমগ্র ইউরোপকে এক শক্তিশালী মস্কোর মুখোমুখি করে দেবে।













