নয় বছর আগে জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) প্রণয়ন করে। যার মধ্যে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণসহ ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তারপরও গত বছর প্রায় ৭৫ কোটি মানুষ ক্ষুধার মুখে পড়েছে, যা ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ১৫ কোটি ২০ লাখ বেশি।
২০৩০ স্প্রিন্টস’ নামে পরিচিত অ্যালায়েন্সের প্রাথমিক প্রতিশ্রুতোগুলোর মধ্যে রয়েছে – ৫০ কোটি মানুষের কাছে নগদ অর্থ স্থানান্তর কর্মসূচি এবং ১৫ কোটি শিশুর জন্য পুষ্টিকর স্কুল খাবার কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা।
কাতারের দোহা ফোরামে বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী নেতাদের বার্ষিক সভায় এই কর্মসূচির একজন সিনিয়র প্রতিনিধি ব্রাজিলের সামাজিক উন্নয়ন ও সহায়তা মন্ত্রী ওয়েলিংটন ডায়াস ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মোকাবেলার গুরুত্ব এবং ঘোষণার পর থেকে জোটের অবস্থা সম্পর্কে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কেন পৃথিবী ব্যর্থ হয়েছে – দারিদ্র্য, দুঃখ ও ক্ষুধা বেড়েছে।
ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স শুরু করার প্রয়োজন ছিল কেন – এ প্রশ্নের জবাবে ওয়েলিংটন ডায়াস বলেন, ২০১৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ এর জন্য অনুমোদিত একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে বিশ্ব। এর একটি অংশ ছিল ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং শূন্য ক্ষুধা অর্জনের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতিশ্রুতি।
পৃথিবী ব্যর্থ হয়েছে। দারিদ্র্য, দুঃখ ও ক্ষুধা বেড়েছে। এই বিষয়গুলো আমাদের ধারণার চেয়ে বড় প্রভাব ফেলে। অভিবাসন সংকট বা সংঘাতের মূল কারণগুলো বিবেচনা করুন – দারিদ্র্য এবং ক্ষুধা অনেক সময় এর কেন্দ্রবিন্দু। এমনকি গণতন্ত্রের প্রতি হুমকিও এসব বিষয়ের সঙ্গে জড়িত।
ধনী দেশগুলোকে অবশ্যই প্রমাণিত কার্যকর প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা করতে হবে। এর মধ্যে জ্ঞান এবং আর্থিক সহায়তা সমর্থিত একটি জাতীয় পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত। উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অবশ্যই তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে এবং সেগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে, আর উন্নত দেশগুলোকে অবশ্যই সহায়তা দিতে হবে। এই উদ্যোগটি রিও ডি জেনিরোতে (জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে) অনুমোদিত হয়েছিল এবং এখন আমরা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
উদ্যোগ বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা কী – এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়েলিংটন ডায়াস বলেন, আমরা ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘের মতো বৈশ্বিক ব্লকের মাধ্যমে এবং ইউএনডিপি (জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি) এবং এফএও (জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা)-এর মতো সংস্থাগুলোর সাথে কাজ করছি। বর্তমানে ৮৬টি দেশ এবং ৬৬টি সংস্থা এই জোটের অংশ। এর কেন্দ্রগুলো মূলত ইউরোপ (এফএও সদর দপ্তর রোম), দক্ষিণ আমেরিকা (ব্রাসিলিয়া), আফ্রিকা (আদ্দিস আবাবা) এবং এশিয়া (ব্যাংকক)। উপসাগরীয় অঞ্চল ও আরব লীগের বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে।
উদ্দেশ্য প্রতিটি দেশের জাতীয় পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা, তাদের প্রয়োজন অনুসারে। হতে পারে আয় স্থানান্তর, স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম, স্থানীয় কৃষি, পেশাদার প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক সংহতকরণ ইত্যাদির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। যেসব দেশ দরিদ্র দেশগুলোকে সহায়তা করতে সক্ষম, তারা এই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করবে।
ক্ষুধা ও দারিদ্র্য আগে কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা হয়নি বলে আপনি মনে করেন কেন – এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়েলিংটন ডায়াস বলেন, ক্ষুধা এবং দারিদ্র্যের বিষয়টি প্রায়শই এড়িয়ে যাওয়া হয়। বিশেষ করে যারা এর দ্বারা প্রভাবিত হয়। দারিদ্র্য ও ক্ষুধার সম্মুখীন অনেক দেশই এ নিয়ে আলোচনা করতে অস্বস্তি বোধ করে।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য দোহা ফোরামের মতো অনুষ্ঠানকে আমি অত্যন্ত মূল্যবান বলে মনে করি। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মতো জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর পাশাপাশি কলম্বিয়া, ব্রাজিল ও মালির মতো দেশগুলোর মধ্যে আমাদের আরও উন্মুক্ত বিতর্ক ও অভিজ্ঞতা বিনিময় প্রয়োজন।
একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্ব প্রত্যেকের জন্য প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাদ্য উত্পাদন করে। এর অর্থ হলো, খাদ্য অপচয়ের বিরুদ্ধে লড়াই এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার অ্যান্ড পোভার্টির সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশগুলো একত্রিত হয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা একটি উন্নত বিশ্ব গড়ে তুলতে পারব বলে আমি মনে করি।













