বাজারে খোলা চিনি ১২০ টাকা কেজি। সেই হিসাবে বড় একটি লেবুর রসের সঙ্গে পরিমাণমতো চিনি মিশিয়ে এক গ্লাস শরবত তৈরিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা খরচ পড়ে যাবে। চিনি ও লেবুর দাম দ্রুত না কমলে স্বল্প আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে থাকবে জনপ্রিয় এই শরবত। বাজারসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
রমজান উপলক্ষে রাজধানীর বাজারগুলোতে ইফতারি তৈরির উপাদান বেগুন, শসা, গাজর, লেবু, তরমুজ ও খেজুরের দাম বাড়ানোর হিড়িক পড়ে গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে এসব পণ্যের দাম কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ও শসার কেজিও ৮০ থেকে ১০০ টাকা।বাজারের খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, রমজান ঘিরে পাইকারি বাজারে এসব ভোগ্য পণ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। এ জন্য তাঁদের বাড়তি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। তাঁরাও এখন খুচরা বাজারে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশান উত্তর ডিএনসিসি কাঁচাবাজার, রামপুরা ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
রাজধানীর জোয়ারসাহারা বাজারের সবজি বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লেবুর দাম বাড়ার কারণে এখন মাঝারি ও ছোট লেবু বিক্রি করতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা হালি। গত সপ্তাহে এসব লেবু বিক্রি করেছি ৩০ থেকে ৫০ টাকা হালি। এক হালি বড় লেবু ১০০ টাকার নিচে বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। গত সপ্তাহে বিক্রি করেছি ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।’
দাম বেড়ে গোল বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি। দেশি শসা ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি এবং হাইব্রিড শসার কেজি ৭০ টাকা। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি, তরমুজের কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। মাল্টার কেজি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। সব ধরনের খেজুর কেজিপ্রতি দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে।
গুলশান উত্তর ডিএনসিসি কাঁচাবাজারে রাজধানীর অন্যান্য বাজারের তুলনায় শসা, লেবু ও বেগুন আরো বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বড় লেবুর হালি ১০০ থেকে ১১০ টাকা, মাঝারি লেবুর হালি ৮০ টাকা। দেশি শসা ১০০ টাকা কেজি এবং হাইব্রিড শসা ৮০ টাকা। বেগুন প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খেজুরের কেজি ৬৫০ থেকে ১২০০ টাকা।
বাজারের সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, এক দিনের ব্যবধানে আজ (গতকাল) বড় লেবু হালিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে তাঁদের কিনে আনতে হয়েছে। পাইকারি বাজারে শসা আর বেগুনের দামও বাড়তি। এতে এসব পণ্য এখন বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
রাজধানীর এই বাজারে কথা হয় সাদিকুল ইসলাম নামের এক ক্রেতার সঙ্গে। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে যে বেগুন ৬০ টাকা ছিল, আজ ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে মনিটরিং থাকলেও খুচরা বাজারে মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে ক্রেতাদের পকেট কাটছেন।’
উত্তর ডিএনসিসি কাঁচাবাজারের খাজা ফ্রুট স্টোরের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মিলন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রমজান মাস উপলক্ষে পাইকারিতে খেজুরের কার্টনপ্রতি (৫ কেজি) দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে। এতে খুচরায়ও দাম বেড়েছে।’













