বাংলাদেশের ছোটগল্প

প্রতিবেদক:-

ডেইলি বাংলা বাজার

বাংলা সাহিত্যের সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আমাদের স্বতন্ত্র অবস্থান এবং আর্থ-সামাজিক ভিন্নতা সত্ত্বেও ঐতিহ্য পরিচয়ের প্রশ্নে গোটা সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে আমাদের লেখকদের পরিচয়ের তথা সম্পর্কের যোগসূত্রটি ক্ষীণ হওয়া উচিত নয়। জানা দরকার সার্বিক উৎকর্ষ-অপকর্ষের ধারা এবং সেই কৃতকর্মের পেছনে বহমান কারণ। এতে নিজেদের ঘরে-তোলা ফসলের প্রতিবিম্বই শুধু নয়, তুলনীয় মূল্যমানও বুঝে নেয়া সহজ হতে পারে এবং কারুকৃতির উন্নয়নেও তা সহায়ক হতে পারে।আহমদ রফিক ধঅলঙ্করণ : শতাব্দী জাহিদদেশ বিভাগের পেছনে তাগিদ ছিল বাঙালি মুসলমানের আত্মশাসনের পথে আত্মবিকাশের। সে তাগিদ পূর্ণতা পায়নি সত্য, তবু বাঙালি মুসলমান মধ্যবিত্তের বিকাশ শুরু হয় দেশ বিভাগের পর থেকেই, যদিও খুব ধীরগতিতে। বাঙালি মুসলমান লেখকের হাতে সাহিত্য, বিশেষ করে কবিতা ও ছোটগল্পের বিকাশও সেই ধারাবাহিকতা ধরেই।
এখানে একটু ভিন্ন ধাঁচের কিছু কথা, যদিও অপ্রাসঙ্গিক নয় মোটেও, বলে নেয়া অর্থাৎ পরিষ্কার করে নেয়া দরকার মনে করছি। আমরা যখন বিভিন্ন প্রসঙ্গে আমাদের সাহিত্য, আমাদের সাহিত্য ঐতিহ্য ইত্যাদি সব কথা বলি, তখন যদিও এতে গোটা বাংলাদেশের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে লেখক ও তাদের রচনার কথাই বোঝায়, কিন্তু তবু সাহস করে লেখক সমালোচক-বুদ্ধিজীবীদের এই সত্য অস্বীকার করা বোধ হয় ঠিক হবে না যে, তখন প্রধানত সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের লেখকদের কথাই আমাদের হিসাবে থাকে। যেমনটি একদা অবিভক্ত বঙ্গে ভিন্ন সম্প্রদায়কে ঘিরে থাকত। ছোটগল্পএমনকি বাঙালি শব্দটিও দুর্ভাগ্যক্রমে তখন একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে উদ্দেশ করে ব্যবহৃত হতো। প্রসঙ্গত ঔপন্যাসিক শরৎচন্দ্রের সেই বহু-উদ্ধৃত বাক্যটি (স্কুলের মাঠে বাঙালি ও মুসলমান ছেলেদের মধ্যে ফুটবল খেলা) স্মরণ করা যেতে পারে। তা ছাড়াও বাংলা ভাষার মান্যগণ্য কারিগরদের প্রায় সবার লেখাতেই এই মনোভাব ফুটে উঠত। চলি্লশের দশকে এসে অবশ্য সংগ্রামী পরিবেশের কারণে এই আপাত চেহারা বহিরঙ্গে পরিস্ফুট থাকেনি, কিন্তু রাজনৈতিক নৈরাজ্য ও সঙ্কীর্ণ চেতনা বিষয়টিকে অন্য এক মাত্রায় বেঁধে দিয়েছিল।
পরে অর্থাৎ সাতচলি্লশের পর ভৌগোলিক রাজনৈতিক কারণে এ অবস্থাই বাস্তব হয়ে ওঠে এবং আমাদের সাহিত্য এই পরিণতি বা উত্তরাধিকার নিয়ে বা বলা যায় কিছুটা উত্তরাধিকার ছাড়াই যাত্রা শুরু করে। শিকড় থেকে শিকড়ের বিস্তারে নয়, নতুন করে শিকড়ের জন্ম দিয়ে এর মূল যাত্রার সূচনা।
তবে আমাদের সাহিত্য প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে উলি্লখিত বক্তব্যটি পুরো সত্য নয়, বলা যায় আংশিক সত্য। আমাদের কথাসাহিত্যের প্রাণপুরুষ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্যানুসরণের পথেই যে তার সৃষ্টিকর্ম শুরু করেছিলেন সে প্রমাণ পাওয়া যায় তার ‘নয়নচারা’র গল্পকাহিনী ও রচনাশৈলী বিচার করে দেখলে। আবার পঞ্চাশ দশকে যে দু-এক জন তরুণ লেখক ছোটগল্প রচনায় মন দেন, তাদের মধ্যে আলাউদ্দিন আল আজাদ বেশ নাম করেছিলেন। তার প্রথমদিককার ছোটগল্প শৈল্পিক বিচারে কাঁচা হলেও তাতে বাম রাজনীতির আলোকে মাটিঘেঁষা জীবন-চিত্রণের চেষ্টা ছিল, ছিল চলি্লশের প্রধান সাহিত্যধারার অনুসরণ।
ওই যে শুরুতে মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশের কথা বলেছিলাম, কয়েকটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে আমাদের ছোটগল্পকারদের হাতে এই উঠতি শ্রেণির আশা-আকাঙ্ক্ষা, বেদনা-ব্যর্থতার শিকড়ছোঁয়া কাহিনী কমই শিল্প হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। বিশেষ করে নিম্নমধ্যবিত্তের জীবনযাপনের যন্ত্রণা, নাগরিক পরিবেশে তার দম অাঁটা নিরন্তর লড়াই ও রক্তাক্ত হয়ে ওঠার কাহিনীও সামান্যই চিত্রিত হয়েছে। কেন জানি না, আমাদের উঠতি মধ্যবিত্তের উঠতি কথাসাহিত্যিকরা জীবনযাত্রার পরিচয় অাঁকতে গিয়ে যৌনতা ও আনুষঙ্গিক বিষয়টাকেই বড় করে দেখিয়েছেন। অথচ বিজ্ঞানের হিসাবেই এটি বেঁচে থাকার দ্বিতীয় সহজাত বোধ, প্রথমটি অবশ্যই ক্ষুণি্নবৃত্তির।
শহর ঢাকার বেড়ে-ওঠা, শহর থেকে নগরে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় যেসব শ্রেণির নেপথ্য-অবস্থান ও জীবনযাপন ট্র্যাজেডি বা কমেডিতে প্রতিফলিত, সেই ইতিকথা ছোটগল্পের ক্যানভাসে কতটুকু ফুটে উঠেছে? অর্থাৎ কথাসাহিত্যের তথা ছোটগল্পের সঙ্গে জীবনবাস্তবতার সম্পর্কের সুতোটা বড় দুর্বল। তাই চমকদার বা চটকদার বিষয়ের আকর্ষণে শিল্পের সেতু পারাপারের চেষ্টা চলেছে একটু জোরেশোরে, যৌনতাকে ফেনিয়ে-ফাঁপিয়ে ঠেসে দেয়া হয়েছে কথাসাহিত্যের ক্যানভাসে। অনেকটা ঘাটতি পূরণের কৌশল হিসেবে।
আর এই বাস্তবতাকে ফাঁকি দিতে তথাকথিত শিল্প প্রকরণের প্রসঙ্গটিত্ত খুব হৈচৈ করে জোরেশোরেই আনা হয়েছে। কেমন করে লিখব তা যেমন জরুরি, কী লিখব তাও তেমনি জরুরি হওয়া সত্ত্বেও ষাটের দশকের একদল তরুণ চেঁচামেচি করেই প্রথমোক্তের লেবেল এঁটে নিজেদের বিপ্লবী বলে মনে করতে থাকলেন। ফলে চিৎকার আর হট্টগোলই সার হলো। বিদেশি সাহিত্যের অন্ধ প্রভাব নিজ দেশের মাটির স্পর্শ পায়নি বলে অস্থানিক উদ্ভিদ বা আগাছার বাড়বাড়ন্তই প্রধান হয়ে উঠেছিল। তখনকার কিছু রাগী লিটল ম্যাগাজিনের পাতা উলটে দেখলে আমাদের বক্তব্যের কিছুটা আভাস মিলবে।
অন্যদিকে ওই ষাটের দশকের উত্তাল বছরগুলো নাগরিক জীবনের গভীরে যে ঢেউ তুলেছিল, নানাভাবে জীবনযাপনে বিভিন্ন অনুভবের জন্ম দিয়েছিল, তাই বা তখনকার পরবর্তী সময়ের ছোটগল্পে কতটুকু দেখতে পাই?
আমাদের শহুরে মানুষ, এমনকি পরবর্তী সময়ের নাগরিক মানুষের মধ্যবিত্ত অংশ গ্রামীণ জীবনের শিকড় থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হতে পারেনি। বাহাত্তরে বাঙালি মধ্যবিত্ত অর্থাৎ মুসলমান মধ্যবিত্তের দ্রুত বিকাশ সত্ত্বেও অন্তত এই শ্রেণিটি এখনো দৃঢ়মূল নাগরিক মানসিকতায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অন্যদিকে আচার-অনুষ্ঠান এবং জীবনযাপনের ধারায় তারা হাত বাড়িয়ে রেখেছে পশ্চিমা ধাঁচের জীবনযাত্রা ও ভোগের উপকরণের দিকে, যার কিছুটা মেলে আবার অনেক কিছুই মেলে না, কিন্তু সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি যে এতসব সত্ত্বেও তাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটেনি, অর্থাৎ গোটা জীবনযাত্রার মূলে রয়েছে এক ধরনের গোঁজামিল।
এই যে মধ্যবিত্ত জীবনের স্ববিরোধিতা, চাওয়া-পাওয়ার দ্বন্দ্ব, গ্রাম-নগর পারাপারের রহস্য_ আমাদের মধ্যবিত্ত জীবনের গল্পে কমই এসেছে, আসলেও তা স্ফটিকের দীপ্তি নিয়ে আসেনি যাতে এর গভীর অন্তর্লোক পর্যন্ত দেখা যায়। অথচ এমন কথা বলা যাবে না যে, গ্রামীণ জীবন নিয়ে গল্প লেখা হয়নি, কিংবা হয়নি শহুরে মধ্যবিত্ত জীবনের গল্প। যা হয়েছে তা নিতান্তই সরলরৈখিক, একরৈখিক। জীবনের ও সমাজের নেপথ্যে সক্রিয় কারণগুলো, ঘটনাগুলো বা ছবিগুলো সেখানে উঠে আসেনি।
ব্যক্তিগত জীবনের আত্মকেন্দ্রিক স্বার্থপরতা এবং সেই সঙ্গে পরিবেশিক অসহায়তা যেমন আমাদের ছোটগল্পকারদের বিশ্লেষী দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি তেমনি করেনি ছিন্ন শিকড় পরগাছাপ্রতিম মানুষের ক্রমাগত ক্ষয় ও অব্যাহত রক্ত ঝরার ট্র্যাজেডি। এ প্রসঙ্গে একবার হাসান আজিজুল হক দুঃখ করে লিখেছিলেন যে, বিষম হৈহট্টগোল সত্ত্বেও ‘আমাদের’ কথাসাহিত্যের মূল ধারাটি সঠিক পথ ধরে তৈরি হলো না। কথাসাহিত্যিকরা বলতে পারলেন না মধ্যবিত্ত শ্রেণির কথা-দুটোচারটে কষ্ট যন্ত্রণার কথা নয়, বিরাট শ্রেণিটি ডুবতে বাধ্য, উদ্ধারের আর কোনো পথ নেই_ এই সমস্ত বিষয়টিকে নিয়ে স্থায়ী কিছু লেখা হলো না।
মধ্যবিত্ত জীবনের জন্ম-স্থিতি-ভাঙনের অন্তর্নিহিত কাহিনী চিত্রিত না হলেও এই শ্রেণির মানুষের অবক্ষয়ের চরিত্র আমাদের ছোটগল্পে মাঝেমধ্যে এসেছে সন্দেহ নেই, তবে তাতে নেপথ্য বাস্তবতা কতখানি ধরা পড়েছে সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণির এই জীবনচিত্র তথা চালচিত্রের মধ্য দিয়ে একটি সমাজের আত্মচরিত ও ভাঙাগড়ার ইতিহাস ধরা পড়তে পারত_ কিন্তু আমাদের কথাসাহিত্যিকদের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তা হয়ে ওঠেনি।
তাই আন্দোলন-গণআন্দোলন ও উপপ্লবের চালচিত্র রচনার নামে চরম রোমান্টিকতা এবং হাহুতাশের ছবিই অাঁকা হয়েছে। আন্দোলনগুলোর প্রাণময়তা, অন্তর্নিহিত চালিকাশক্তির পরিমুক্ত প্রকাশ সার্থকতার পরিচয় ততটা রাখতে পারেনি। এমনকি কেউ কেউ এই উপলক্ষে আত্মপ্রচারের কাজটিও সুকৌশলে সমাধা করেছেন।
অন্যদিকে বাহাত্তর-পরবর্তী হঠাৎ ফেঁপে-ওঠা বিত্তবানদের ভোগ-লালসার জীবন নিয়ে রসালো গল্প-উপন্যাস নিতান্ত কম লেখা হয়নি। যৌনতা, বিকৃত রুচি, অস্বাভাবিক জীবনযাত্রা বেশ রগরগে চেহারায় পরিবেশনের কাজটি আমাদের একালের লেখকরা যথেষ্ট আগ্রহের সঙ্গেই করেছেন। কারণ, এই পিছল রাস্তায় পরিভ্রমণ আমাদের লেখকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয় বিষয়, বিশেষ করে পাঠকপ্রিয়তার বিবেচনায়। তরুণ লেখকদের মধ্যে ঘুরে ফিরে এই বৃত্তটিতে বিচরণের তথা পরিভ্রমণের ঝোঁক লক্ষ্য করার মতো।
আপাত বিচারে উলি্লখিত শ্রেণি এখন নাগরিক এলিট শ্রেণির অন্তর্গত। এন্তার অর্থনৈতিক প্রাচুর্য অর্থাৎ কালো টাকার স্তূপে বসে থাকা সত্ত্বেও এদের চরিত্রে নাগরিক মননশীলতা ও ঋজুতার দীপ্তি ঝরে না। আলাপে আচরণে এখনো অপরিচ্ছন্ন গ্রাম্যতার প্রকাশ যথেষ্ট, সজ্জায় ও আচরণে বৈপরীত্য প্রকট, ঘরে-বাইরে স্থূলতার প্রকাশ স্পষ্ট। যেমন এরা তেমনি এদের ছেলেমেয়েরা বস্নু-ফিল্ম সংস্কৃতির ভক্ত। এদের পুরুষরা দিব্যি দেশের বাইরে যান সময় উপভোগ করতে, ছেলেরা সেদিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে আর ভাবে তারা কবে ওই বয়সে ওই স্বাধীনতায় পেঁৗছাবে। তুলনায় এদের নারীকুল নানা প্রসাধনীতে ও অতিপুষ্টিতে স্থূলরূপা ও স্থূলকায়া।
এই অনাচারী হঠাৎ গজিয়ে-ওঠা এবং আর্থ-সামাজিক নিয়মে গজিয়ে-ওঠা পরগাছা শ্রেণিটির রসালো চরিত্র আজকের তরুণ লেখক কথাসাহিত্যের একাধিক ফর্মে এঁকে তুলছেন ঠিকই, কিন্তু বিশেষ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও সেগুলোর ব্যবহারিক দিক অাঁকায় অধিকতর মনোযোগী হওয়ার কারণে এবং এদের এই উঠে আসার সামাজিক প্রেক্ষাপট যথেষ্ট গুরুত্ব না পাওয়ার কারণে; এইসব রচনা শুধু যে এক ধরনের ম্যানারিজমের শিকার হয়ে উঠছে তাই নয়, এগুলো শিল্পবস্তু হয়ে ওঠার বদলে আধা-পর্নোগ্রাফিতে পরিণত হয়েছে। কয়েকজন শক্তিমান কথাসাহিত্যিকের রচনায় এই প্রবণতার দুর্লক্ষণ দেখে এ কথা বলতে হয়।
প্রসঙ্গত ছোটগল্পের উঠে-আসার ধারায় অনেককেই লিটল ম্যাগাজিনের ভূমিকার পক্ষে উচ্ছ্বাসে গদগদ হয়ে উঠতে দেখি। আমার মনে হয়, এদের কেউ কেউ ছোটগল্পের অনাচারী চরিত্রের প্রকাশ ঘটাতে যতটা সাহায্য করেছে শিল্প সৃষ্টিতে মোটেই ততটা প্রেরণা জোগাতে পারেনি। এসব ম্যাগাজিনের চিৎকারটা নিতান্তই লোক দেখানো, অন্তসারশূন্য, হৈহট্টগোল লোক জমানো তথা পাঠক সৃষ্টির চেষ্টা। এই গলাবাজিটা ওই ফুটপাতের ‘থ্রি-ইন-ওয়ানধারী’ বক্তৃতাবাজ ওষুধ বিক্রেতাদের মতো। ওদের ফাঁপা ও যুক্তিহীন বক্তৃতা শুনতে লোকজন নেহাত কম জমা হয় না এবং এদের মধ্যে সবাই যে ঝুপড়িবাসী নাগরিক তাও নয়, যথেষ্টসংখ্যক আধুনিক-বেশ মানুষকেও সেখানে মনোযোগ এগিয়ে দিতে দেখা যায়। এই ছোট্ট কিন্তু অকিঞ্চিৎকর নয়, ঘটনায় আমাদের নাগরিক সংস্কৃতির যে-চেহারা, যে-চরিত্র ফুটে ওঠে, তা যেমন সন্তোষের নয়, তেমনি গর্বেরও নয়, সত্যিকার অর্থে তা আধুনিক-নাগরিকতার পরিচায়ক নয়, বরং গ্রাম্য স্থূল রুচির প্রকাশ স্পষ্ট করে তোলে।
আমাদের সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিশেষ করে কথাসাহিত্যে, এবং ছোটগল্পে তো বটেই, এই চরিত্রেরই আভাস প্রতিফলিত যেখানে সুকৃতি ও সুফসলের পরিমাণ বড় অল্প। আর আমাদের উপন্যাস সাহিত্যে এই অপরিপক্বতার পরিচয় ছোটগল্পের তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি, সেখানে অনাচারিতার প্রকাশ তার চেয়েও বেশি।
সবশেষে একটি কথা বলি।
বাংলা সাহিত্যের সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আমাদের স্বতন্ত্র অবস্থান এবং আর্থ-সামাজিক ভিন্নতা সত্ত্বেও ঐতিহ্য পরিচয়ের প্রশ্নে গোটা সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে আমাদের লেখকদের পরিচয়ের তথা সম্পর্কের যোগসূত্রটি ক্ষীণ হওয়া উচিত নয়। জানা দরকার সার্বিক উৎকর্ষ-অপকর্ষের ধারা এবং সেই কৃতকর্মের পেছনে বহমান কারণ। এতে নিজেদের ঘরে-তোলা ফসলের প্রতিবিম্বই শুধু নয়, তুলনীয় মূল্যমানও বুঝে নেয়া সহজ হতে পারে এবং কারুকৃতির উন্নয়নেও তা সহায়ক হতে পারে।

  • ইসরায়েলের শহরে হাজার হাজার মৌমাছি, আতঙ্কে ঘরবন্দী মানুষ

    ইসরায়েলের শহরে হাজার হাজার মৌমাছি, আতঙ্কে ঘরবন্দী মানুষ

    ইরান ও লেবাননের সাথে যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই ইসরায়েলের নেতিভত শহরে ছড়িয়ে পড়েছে এক নতুন আতঙ্ক। কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন নয়, এবার হাজার হাজার মৌমাছির বিশাল এক ঝাঁক ঢেকে ফেলেছে শহরের আকাশ। এই অস্বাভাবিক ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশটির সামরিক বাহিনীও বড় ধরনের বিড়ম্বনায় পড়েছে। খবর আল জাজিরার। গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) নেতিভত শহরের একটি শপিং…

  • যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি বাতিল বা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে লন্ডনের অবস্থানের প্রতি অসন্তোষের জেরে এই মন্তব্য এসেছে বলে দ্য টেলিগ্রাফের  প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী রেচেল রিভস মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। রেচেল রিভস বলেন, কোনো স্পষ্ট “এক্সিট প্ল্যান” ছাড়া যুদ্ধ শুরু করা একটি বড়…

  • রেফারি ম্যাচ ডাকাতি করেছেন’ বলায় নিষিদ্ধ হতে পারেন রাফিনিয়া

    রেফারি ম্যাচ ডাকাতি করেছেন’ বলায় নিষিদ্ধ হতে পারেন রাফিনিয়া

    চোটের কারণে মাঠের বাইরে রাফিনিয়া। বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান তারকাকে তাই উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ক্লাবের ছিটকে পড়া দর্শক হিসেবে দেখতে হয়েছে।  চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে হারলেও গতকাল রাতে ফিরতি লেগে ২-১ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। কিন্তু দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলে পিছিয়ে থাকায় বার্সার পথচলা থমকে গেছে। আতলেতিকো উঠে গেছে সেমিফাইনালে।…

  • হঠাৎ ইরান গেলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, নেপথ্যে কী?

    হঠাৎ ইরান গেলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, নেপথ্যে কী?

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ফের আলোচনা শুরু করার বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে অংশ নিতে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বুধবার তিনি তেহরানে পৌঁছেছেন। ইরানের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরানে…

  • বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় তারেক রহমান

    বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় তারেক রহমান

    বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনের প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার ২০২৬ সালের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে টাইম। ম্যাগাজিনে তারেক রহমানকে নিয়ে মুখবন্ধটি লিখেছেন টাইমের সিঙ্গাপুর ব্যুরো অফিসের সম্পাদক ও ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞ চার্লি ক্যাম্পবেল। তালিকাটি সাধারণত বিশ্বের রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও…

  • লোককবি ফকির মহব্বত শাহ

    লোককবি ফকির মহব্বত শাহ

    লোককবি ফকির মহব্বত শাহজামিল জাহাঙ্গীর🇧🇩♥️🇧🇩লোক গবেষক, কবি ও গীতিকার ফকির মহব্বত শাহ—যিনি মনু মহব্বত নামে কবিতা লিখতেন—বৃহত্তর নোয়াখালীর লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একনিষ্ঠ সাধক ছিলেন। ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল তিনি চিরকালের ঠিকানায় পাড়ি জমান। গতকাল ছিল তাঁর দ্বিতীয় প্রয়াণবার্ষিকী—এক নীরব স্মরণ, এক অপূর্ণ দায়ের প্রতিধ্বনি। জনতা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শেষ করলেও তাঁর প্রকৃত…

  • চুক্তি হতে হতে ভাঙল, শেষ মুহূর্তে কী ঘটল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকে

    চুক্তি হতে হতে ভাঙল, শেষ মুহূর্তে কী ঘটল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকে

    ইসলামাবাদে দীর্ঘ আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়নি, তবে কয়েকটি বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে এখনো ২ থেকে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। তিনি বলেন, ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া সংঘাতের পর এই আলোচনা…

  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কা

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কা

     অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিত করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে বিচার বিভাগের কাঠামো ও স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আইনজ্ঞদের আশঙ্কা, এর ফলে বিচার বিভাগ আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে এবং…

  • পরিকল্পিত হামলায়   পীর শামিম রেজাকে  হত্যা, ভাঙচুর-দরবারে আগুন

    পরিকল্পিত হামলায় পীর শামিম রেজাকে হত্যা, ভাঙচুর-দরবারে আগুন

    পরিকল্পিত হামলায় পীর শামিম রেজাকে হত্যা, ভাঙচুর-দরবারে আগুন। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় নামক স্থানে গড়ে ওঠা কথিত এক পীরের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আস্তানার প্রধান আব্দুর রহমান ওরফে শামিম (৬০) নিহত হয়েছেন। এসময় আরও ৩ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে…

  • মহান একুশে বইমেলায়  অংশ নিবে না ৩৫০ প্রকাশনী : বাংলা একাডেমীর ডি. জি’র পদত্যাগ চায়   ‘প্রকাশক ঐক্য’

    মহান একুশে বইমেলায় অংশ নিবে না ৩৫০ প্রকাশনী : বাংলা একাডেমীর ডি. জি’র পদত্যাগ চায় ‘প্রকাশক ঐক্য’

    মহান একুশে বইমেলায় অংশ নিবে না ৩৫০ প্রকাশনী। বাংলা একাডেমীর ডি. জি’র পদত্যাগ চায় ‘প্রকাশক ঐক্য’। বাংলা একাডেমীর চরম অব্যবস্থাপনা ও বৈষম্য অনেক বছর ধরে চলছে। নানাবিধ অনিয়ম ও অযোগ্যতার কারণে এই অচল অবস্থা। বাংলা ভাষার উন্নয়নের জন্য বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা হয়। বইমেলার মতো বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড নিয়ে চরম ব্যস্ত থাকে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা । ফলঃত…

  • জনগণের মনে শান্তি-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

    জনগণের মনে শান্তি-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই বিএনপি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।  তারেক রহমান বলেন, শুরুতেই মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছি। তাঁবেদার মুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে, জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি নতুন সরকার…

  • আফরোজা খানম রিতার বিপুল বিজয়ের  কারণ সততা, সক্রিয়তা ও পিতার উত্তরাধিকার

    আফরোজা খানম রিতার বিপুল বিজয়ের কারণ সততা, সক্রিয়তা ও পিতার উত্তরাধিকার

    আফরোজা খানম রিতার বিপুল বিজয়ের কারণ সততা, সক্রিয়তা ও পিতার উত্তরাধিকার । জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর থেকে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা। এই বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার নেপথ্যে কয়েকটি বিষয়টি নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা নির্বাচনের…