সক্রিয় আন্ডারওয়ার্ল্ড : সংগ্রহ সময়ের আলো
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জামিনে বের হওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীরা অপরাধ সাম্রাজ্য দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। কেউ কেউ প্রভাব বিস্তারে প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব, চাঁদাবাজি ও খুনোখুনিতে জড়িয়ে পড়ে। নতুন করে মামলাও হয় কারও কারও বিরুদ্ধে। অপরাধ সাম্রাজ্য চাঙ্গা করার এ অপতৎপরতা থেমে নেই। আন্ডারওয়ার্ল্ডের দাপট দেখাতে কিশোর গ্যাং সদস্য ও জেল পলাতক সন্ত্রাসীদের দলে টানছে তারা। কেউ কেউ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সম্প্রতি এসব দাগি সন্ত্রাসীর দ্বারা সংঘটিত বেশ কয়েকটি ঘটনা হুমকিতে ফেলেছে ঢাকার নিরাপত্তাব্যবস্থাকে। কমপক্ষে চার শীর্ষ সন্ত্রাসী আবারও আন্ডারওয়ার্ল্ড শক্তিশালী করার অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। দেশ ছেড়ে পালিয়েছে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী। বয়সের ভারে আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুই কুখ্যাত সন্ত্রাসী কিলার আব্বাস ও সুইডেন আসলাম নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সূত্র। পুলিশ বলছে, জামিন পাওয়া সব শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কেউ আবার অপরাধে যুক্ত হলে গ্রেফতার করা হবে।
কিন্তু অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিন পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ বলছে, তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নজরদারিতে দুর্বলতা না থাকলে তারা নতুন করে অপরাধ করার এবং বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেত না। এ ক্ষেত্রে পুলিশের কঠোর হতে এবং নজরদারিও আরও বাড়াতে হবে। না হলে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, আওয়ামী লীগের পতনের পর একে একে রাজধানীর ২৭ সন্ত্রাসী জামিনে বেরিয়ে আসে। তাদের মধ্যে খোরশেদ আলম ওরফে রাসু ওরফে ফ্রিডম রাসু, শেখ মোহাম্মদ আসলাম ওরফে সুইডেন আসলাম, ফ্রিডম সোহেল, হাবিবুর রহমান তাজ, মিরপুরের কিলার আব্বাস ওরফে আব্বাস আলী, তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদ, মোহাম্মদপুরের ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, হাজারীবাগের সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন, শাহাদত হোসেন, মুক্তার, খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন, সুব্রত বাইন ও মুসা শিকদার ওরফে সুমন শিকদার অন্যতম।
সূত্র বলছে, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কয়েকজন নিজেদের দল গুছিয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজেদুল ইসলাম ইমন মালয়েশিয়ায় চলে গেছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। ইমনের স্ত্রী খন্দকার শাহনাজ পারভীন লিনাও ওই দেশে বসবাস করেন। লিনা আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটনের ছোট বোন। বয়সের কারণে নিষ্ক্রিয় সন্ত্রাসী কিলার আব্বাস দুবাই চলে গেছেন বলে জানা গেছে। তাদের ‘দেশ ছাড়ার’ খবর ঢাকাতেই নিরাপদে থাকার কৌশল হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদেরও কেউ কেউ দেশে ফিরে আসছে। এ তালিকায় আছে শীর্ষ সন্ত্রাসী গোলাম রসুল ওরফে টোকাই সাগর। মাসখানেক আগে সে আমেরিকা থেকে ঢাকায় আসে। এখন সে বিমানবন্দর, গুলশান ও বনানী এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। আরেক সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন বছর দুয়েক ধরে একটি গোয়েন্দা সংস্থার ‘আয়নাঘরে’ বন্দি ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সুব্রত বাইন আয়নাঘর থেকে ছাড়া পায়। তার বিরুদ্ধেও আবার বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। রমনা, মগবাজার, কাকরাইলসহ আরও কয়েকটি এলাকায় একক আধিপত্য চালানোর চেষ্টা করছে। মোল্লা মাসুদ মুক্তির পর ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। শুরুতে একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে তার বিরোধ হলেও পরে সমঝোতা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সন্ত্রাসীদের কেউ কেউ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে আগের ‘সেভেন স্টার’ ও ‘ফাইভ স্টার’ গ্রুপের মতো জোটও করতে চাইছে।
সূত্র আরও জানায়, জামিনে বেরিয়ে শুটার মুসা ওরফে মুসা শিকদার আবারও পল্লবী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী বিদেশে থাকা জিসানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সে। ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে মুসাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে আসে মুসা। এর পর সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে ফের দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অপরাধ জগৎ। গত ২০ জানুয়ারি পল্লবীর টেকেরবাড়িতে দিনদুপুরে ১০-১২ দুর্বৃত্ত মঞ্জুরুল ইসলাম বাবু নামে এক যুবককে চাপাতি ও ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। বাবুর স্বজন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এ হত্যায় কলকাঠি নাড়ে দাগি সন্ত্রাসী মুসা। এ ঘটনায় মুসাকে প্রধান আসামি করে পল্লবী থানায় মামলাও করেন বাবুর স্ত্রী। এ ছাড়াও মুসার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্রসহ ১১টি মামলা রয়েছে।
সম্প্রতি রাজধানীর নিউ এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের সামনে মার্কেটের দুই ব্যবসায়ীকে কোপানোর নেপথ্যে নাম আসে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন ও ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলালের। মামলায়ও এ দুজনের নাম রয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, ওই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজি নিয়ে ইমন ও পিচ্চি হেলালের দ্বন্দ্ব। ইমন দেশের বাইরে চলে যাওয়ার খবর এলেও তার সহযোগীরা হাজারীবাগ ও আশপাশের এলাকায় অপরাধ সংঘটনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আর পিচ্চি হেলাল তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে মোহাম্মদপুর ও বছিলা এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, পিচ্চি হেলাল দীর্ঘদিন কারাগারে থাকলেও মোহাম্মদপুরে সক্রিয় ছিল তার সহযোগীরা। মুক্তি পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে আবারও চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে স্থানীয় লোকজন কয়েকবার মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এ ছাড়াও মোহাম্মদপুর রায়েরবাজার এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় জোড়া খুনের ঘটনায় পিচ্চি হেলালসহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়।
এদিকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রিও ফ্যাশনসহ মিরপুরের একাধিক তৈরি পোশাক কারখানার ঝুটের নিয়ন্ত্রণ ছিল সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর রজ্জব হোসেনের হাতে। তিনি মাসোহারা দিতেন সন্ত্রাসীদের। কিন্তু ৫ আগস্টের পর ঝুট ব্যবসা দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হলে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদত হোসেন ও মুক্তারের সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজের গ্রুপের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে ২ জানুয়ারি মিরপুর ৭ নম্বর সেকশনের রিও ফ্যাশন ও রি ডিজাইন লিমিটেডের ঝুট নামানো নিয়ে শাহাদত, মুক্তার এবং যুবদল নেতা মিরাজের নেতৃত্বে রূপনগর থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাদিউল ইসলাম রাজীব, পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াদের গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এ সময় ককটেল ছোড়া হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে এসেছেন। দখল, চাঁদাবাজি ও খুনোখুনির কিছু ঘটনায় কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। তাদের মধ্যে অন্যতম পিচ্চি হেলাল, ক্যাপ্টেন ইমন, মুসা ও সুব্রত বাইনসহ আরও কয়েকজনের নাম এসেছে। রাজধানীর নিরাপত্তার জন্য বেশি হুমকি হয়ে দাঁড়ানোয় ৬ সন্ত্রাসীকে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে কারামুক্ত সন্ত্রাসীরা দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছে। তারা বিভিন্নভাবে তদবির করছে। মোহাম্মদপুরের পিচ্চি হেলাল মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে সে ‘ভিসা’ পাওয়ার চেষ্টা করছে। সুইডেন আসলামও একইভাবে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। রাসু ও ফ্রিডম সোহেল দুবাই যেতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, সন্ত্রাসীরা যাতে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য বিমানবন্দরসহ দেশের সবকটি সীমান্ত এলাকায় তাদের বিষয়ে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সন্ত্রাসীদের তৎপরতা নিয়ে পুলিশের কয়েকটি ইউনিট প্রতিবেদন তৈরি করেছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে মালিবাগের সানরাইজ হোটেলে ডিবি পুলিশের দুই সদস্যকে হত্যার পর পালিয়ে যাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান দুবাইয়ে আত্মগোপনে আছে। রাজধানীর শাহজাহানপুরে টিপু হত্যাকাণ্ডের পর সে আলোচনায় এসেছিল। দুবাইয়ে থাকলেও ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে সবচেয়ে বেশি প্রভাব তার। জিসানের সহযোগী জাফর আহমেদ মানিক ওরফে ফ্রিডম মানিক ভারতে আছে। কিন্তু দেশে তার দখলবাজি, টেন্ডার বাণিজ্য ও চাঁদাবাজিতে এখনও নিয়ন্ত্রণ আছে। তাদের সঙ্গে জামিন পাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সখ্য রয়েছে। এ ছাড়াও ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় থানা, ফাঁড়িসহ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে যেসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়েছে, তার একটি অংশ হাতবদল হয়ে ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কাছে চলে গেছে। সেই অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও খুনোখুনিতে। পেশিশক্তি বাড়াতে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা নতুন মুখের তরুণ সন্ত্রাসীদের হাতে এসব অস্ত্র তুলে দিয়েছে। তাদের কারণেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে জনমনে।
বিষয়ে সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক সময়ের আলোকে বলেন, ৫ আগস্টের পর যেসব সন্ত্রাসী জামিনে বের হয়েছেন এবং যারা জেল ভেঙে পালিয়েছেন তারা রাজধানীবাসীর নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি। কেউ আইনগত প্রক্রিয়ায় জামিন পেলে আমাদের বলার কিছুই থাকে না। তবে আইনশৃঙ্খলার কথা চিন্তা করে বিচারালয় জামিনের সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নিলে ভালো হবে। কারণ শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিনে বেরিয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। কারও কারও নামে নতুন করে মামলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা সবসময় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে ক্ষমতা প্রদর্শনের চেষ্টা করে, যাতে জামিন ও বিচারে অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যায়। রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের ব্যবহার করে। সুতরাং রাজনৈতিক দলগুলোর অপরাধমুক্ত হওয়ার সুদৃঢ় অঙ্গীকার থাকা দরকার। পাশাপাশি পুলিশের কেউ কেউ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ভাগবাটোয়ারার সম্পর্ক গড়ে তোলে। ওই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশকে শুদ্ধ করতে হবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এসএন মো. নজরুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর নতুন করে অপরাধ সংঘটনে নাম আসছে কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর। আমরা তাদের স্পষ্ট করে বলতে চাই, পুরোনো মামলায় জামিন পেয়ে তারা মুক্ত হয়েছে। নতুন করে কোনো অপরাধ সংঘটিত করলে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
ইতিমধ্যে আমরা কয়েকজনকে নজরদারির মধ্যে রেখেছি। দুজনের বিদেশ যাওয়ার খবর পেয়েছি। কিন্তু ইমিগ্রেশন থেকে আমরা নিশ্চিতভাবে কোনো তথ্য পাইনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলার যে ভঙ্গুর অবস্থা হয়েছিল তা থেকে আমরা এখন অনেক ভালো আছি। এখন যদি কেউ নতুন করে অপতৎপরতার চেষ্টা করে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। বেশি হুমকি মনে হলে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিন বাতিলের আবেদন করা হবে। ইতিমধ্যে সদর দফতর থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জামিনপ্রাপ্ত কোনো সন্ত্রাসী অপরাধে জড়ালে আইনের আওতায় আনতে। অপরাধ করে কারোই পার পাওয়ার সুযোগ নেই।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) রেজাউল করিম মল্লিক সময়ের আলোকে বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী আর নিম্ন সন্ত্রাসী বলতে কিছু বুঝি না। নিরাপদ দেশ ও শান্তিপ্রিয় ঢাকা বজায় রাখতে যা করা দরকার, আমরা করব। আমাদের গোয়েন্দারা অপরাধ নির্মূলে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন অনেক সন্ত্রাসীকেই নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কেউ অপরাধ করলেই গ্রেফতার হতে হবে। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ দমনে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে প্রথমবার সুইডেন আসলাম, যোশেফ, বিকাশ ও প্রকাশকে ধরতে ৫০ হাজার টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করে সরকার। আর ২০০১ সালের ১ অক্টোবর বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার খুনোখুনি ও সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বেড়ে গেলে ঢাকার ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করে, যাদের অনেকেই এখনও অপরাধ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রক।
সংগ্রহ : সময়ের আলো/













