পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতাজ্বী অতি সম্মানিত নেত্রী । তিনি নাকি বাংলাদেশে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষী মোতায়েনের দাবি করেছেন!
বেশ অনেক বছর আগে কলকাতা নিউ মার্কেটের সামনে I গ্লোব নার্সারি , একটি অতি পুরাতন গাছপালার দোকানে গাছের চারা কিনতে গেলাম । কলকাতা গেলে ওখান থেকে কিছু না কিছু দুষ্প্রাপ্য গাছের চারা কিনি। ঠিক তখনই মাইক এ জ্বালাময়ী বক্তৃতা শুরু হলো । তখন পশ্চিম বঙ্গে বামপন্থীদের সরকার। মমতা জ্বীর দল টাটা কোম্পানি র পশ্চিমবঙ্গে গাড়ি কারখানা তৈরির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলেন।
বক্তৃতা দিচ্ছিলেন একটি অল্পবয়সী ছাত্রী মনে হলে, ভীষণ আবেগে জ্বালাময়ী বক্তৃতা । শেষ পর্যন্ত এই Tata কে পশ্চিমবঙ্গে থেকে তাড়িয়ে ছাড়লেন । একটি বড় রকমের উন্নতি থেকে বঞ্চিত হলো পশ্চিমবঙ্গ । এইসব আন্দোলন করেই কমিউনিস্টদের বিতাড়িত করে ক্ষমতা পেলেন দিদি।
এত বছর পর, কেন যেন মনে হলো , সেদিনের সেই তুখোড় জ্বলময়ী বক্তৃতা দেয়া মেয়েটা কি জানত যে এই মমতাজ্বীর সরকারের সময়েই তারই মতো একটি নিষ্পাপ কুমারী ডাক্তার মেয়েকে পাশবিক ভাবে ধর্ষণ করে হত্যা করা হবে ( জানি , বনের পশুরা ও এতো জঘন্য কাজ করে না ,হত্যা করে শুধু যখন তার নিজের জীবনে মৃত্যুর শঙ্কা আসে )।
মমতাজ্বী নিজের মেয়েকে রক্ষা করতে পারলেন না। আর বিচারের দাবিতে যখন সারা পশ্চিমবঙ্গ উত্তাল , স্লোগান দিচ্ছে বাংলাদেশের ছাত্রদের গৌরব গাঁথা গেয়ে, তখনও তিনি মনে করতে পারলেন না যে তার আর তার সরকারের কিছু দায়িত্ব আছে! তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের উপর দায়িত্ব চাপালেন । তিনি মনে করতে পারলেন না , তার দেশের কেন্দ্রীয় সরকার যেহেতু তার মতে সুশাসন নিশ্চিত করতে পারবেন না , নিরপেক্ষ তদন্ত আর বিচারের জন্য জাতিসংঘের বিচারালয়ই তার আবেদন করা দরকার। করেন নি সেটা, নিজেও কিছু করতে পারলেন না। মেয়েটার অভাগা পিতা মাতার সম্বল হলো শুধুই অশ্রুজল ।
আর এখন তিনি, ভুলে গেলেন , বাংলাদেশে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই নাগরিক , সবাই একটি সভরেইন রাষ্ট্রের নাগরিক, সম অধিকার আর সম দ্বায়িত্বের । তিনি ভুলে গেলেন , ধর্মের ভিত্তিতে কোনও রাজনীতি টিকে থাকেনি , ধর্মের ভিত্তিতে বিভেদ করে রাষ্ট্র চলে নি , চলবেও না। এইতো মাত্র কদিন আগেই তাঁর জোট তাদেরই উত্তর প্রদেশের নির্বাচনে সেটা প্রমাণ করল । তাঁদের ই প্রধান মন্ত্রী মোদি সাহেব নির্বাচনে জেতার জন্য ধর্মীয় বিভেদকে সামনে এনে সংখ্যা লঘু অন্যধর্মের অসন্মান করলেন, উত্তর প্রদেশের নাগরিক রা সেটা ছুড়ে ফেলে দিলেন , মোদী জ্বীর দল সমর্থন পেল ন। সারা দেশে তার আসন কমল আশিটির মতো ।
আসলে এখন বাংলাদেশে যা ঘটেছে সেটা , সাম্রদায়িকতার ভিত্তিতে নয়, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে , জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। মমতাজী জানেন , যুগ যুগ ধরে স্বৈর শাসকরা ক্ষমতায় থাকতে ধর্মকে ব্যবহার করে, টিকতে চান অনন্তকাল । বাংলাদেশেও , চেষ্টা হয়েছিল ধর্মীয় সন্ত্রাসের জুজুর ভয় দেখিয়ে । আন্তর্জাতিক ভাবে দেশটাকে একটা সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের রূপ দেয়ার চেষ্টা সফল হয়নি। যদিও এদেশের অনেক ক্ষতি হয়ছে, এদেশের নাগরিকদের অন্য দেশে যাওয়া, কাজের তাগিদে, বেঁচে থাকার প্রয়োজনে , সবটাই অতি কঠিন করে ফেলল আম্মাদেরই সরকার। মমতা জ্বীর দেশে যেমন ধর্মীয় বিভেদের রাজনীতি পরাজিত হচ্ছে, এখানে সেটা হয়ে গেছে।রাজনীতি আর শিক্ষায় আমাদের চেয়ে অগ্রসর থাকার পরেও মমতাজ্বীরা পেছনে পড়ে গেলেন! বুঝতে পারলেন না , ইতিহাসের শিক্ষা অন্যরকম । ভূতের পা পেছন দিকে!
অনুশোচনা হয়, বিশ্ব রাজনীতির ধারণা তাঁর অনেক বিস্তৃত থাকার পর ও কেন উনি এটা বললেন , এটাও কি ওনার Tata Company এর গাড়ি কারখানার মতো রাজনীতির হাতিয়ার ? দেখতে পেলেন না তাঁর নিজের দেশের পূর্বাঞ্চলে বা দক্ষিণাঞ্চলে ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি কত বড় সর্বনাশ ডেকে আনছে তাঁর ই দেশের জন্য। তার এই আহ্বান শুনে ভয় পেলাম, তার আগের আহ্বান সর্বনাশ করেছে পশ্চিম বঙ্গের, আর এটা সর্বনাশ করবে গোটা উপমহাদেশের ।
মমতা জী নিশ্চয়ই জানেন ধর্মীয় উগ্রবাদ সব ধর্মের লোকের মাঝে থাকে, যদিও সংখ্যা অনেক কম ।এখন ভারতের সেই সাম্প্রদায়িক শক্তির প্রতিষ্ঠিত প্রচার মাধ্যম অসত্য গুজব ছড়িয়ে নিজেদের আর এদেশের মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি আর অবিশ্বাসের সৃষ্টি করছে। এদেশের মানুষ তা বুঝে। কিন্তু সর্বনাশ বেশি হতে পারে তারই নিজের দেশে ।
অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক নেতৃত্ব, যার একজন মমতা জ্বী নিজেও , তার কাছ থেকে আমি একটি সুস্থ দিক নির্দেশনা প্রত্যাশা করছিলাম , উনি আমাকে লজ্জা দিলেন, হতাশ করলেন। আর একটু ছোট কথায় তিনি মোদি জ্বীর উত্তর প্রদেশের বিধ্বস্ত রাজনীতির পথে সুস্থ রাজনীতি বিসর্জন দিলেন। ভারতের মতো একটি বিশাল রাষ্ট্র তার মহাৎ রাজনীতি তে নিবেদিত থাকলে বিশ্বের জনগণের মঙ্গল আনবে। কিন্তু দুঃখ পেলাম মমতা জ্বীর বিভ্রান্তিতে , পদক্ষলনে
এদেশেও যে ছাত্র নেতৃত্ব আমাদের রাজনৈতিক মুক্তির পথ দেখিয়েছেন, তাদেরকেও অনুরোধ করব , এদেশে , উত্তেজনা সৃষ্টিকারীদের চক্রান্ত সম্মন্ধে সচেতন থাকুন । পরাজিত অশুভ শক্তি দেশে এবং পাশের দেশে ও কিছু শক্তি চক্রান্ত করেই যাচ্ছে। আর দেশের ভেতর ছোট খাটো উত্তেজনা তারা ই সৃষ্টি করছে দেশটাকে অস্থিতিশীল করে ফায়েদা নেয়ার জন্য।
আমি লজ্জা পেয়েছি দেখে যে, এদেশের কিছু ছাত্র অন্য একটি দেশের জাতীয় পতাকা পাড়িয়ে যাচ্ছে । এদেরকে সচেতন করা দরকার । নিজেদের সুপেরিয়র প্রমাণ করার পথ এটা নয়, জ্ঞান বিজ্ঞান , একমাত্র সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি করেই সেটা করা যায়, অন্য দেশের পতাকা পদদলিত করে নয়। প্রতিটি দেশ সম্মানের, প্রতিটি দেশের নাগরিক আমাদের শ্রদ্ধার যদিও কিছু দেশের নেতৃত্ব কখনও কখনও ক্ষুদ্র ক্ষমতার লোভ তার নিজেদের জনগণকেই বিভ্রান্ত করে যায়। সেসব দেশের নাগরিকদের ও সচেতন থাকা দরকার।
এ পৃথিবীতে পারস্পরিক সন্মানবোধ ই কেবল শান্তিতে বেঁচে থাকার পথ দেখাতে পারে ।
মোঃ আব্দুল আজিজ। ইঞ্জিনিয়ার। পরিবেশবিদ।













