কূটনৈতিক প্রতিবেদক ও চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামে আদালতের পার্শ্ববর্তী আইনজীবীদের চেম্বার ভবনের সামনে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর অনুসারীরা এক আইনজীবীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ইসকনের সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশ ও সাধারণ জনতার ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইসকনের সদস্যরা সারা শহরজুড়ে তাণ্ডব চালায়। এতে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে অন্তত ২৭ জন। নগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি ৬ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিক্ষোভকারীরা এক আইনজীবীকে চেম্বারের নিচ থেকে ধরে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। নিহত
আইনজীবীর নাম সাইফুল ইসলাম ওরফে আলিফ (৩৫)। তিনি সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি)। তাকে হত্যার প্রতিবাদে আজ বুধবার আদালতের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। অন্যদিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার ও জামিন নামঞ্জুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ভারত। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়।
জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগে বিএনপির এক নেতার দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গত সোমবার ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় কৃষ্ণকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর গতকাল বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম ষষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কাজী শরীফুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয় চিন্ময় কৃষ্ণকে। এ সময় চিন্ময় কৃষ্ণের জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে চিন্ময়কে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) হুমায়ুন কবীর জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সঙ্গে ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার
এপিপি আলিফ হত্যার নিন্দা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জনগণকে শান্ত থাকার এবং অপ্রীতিকর কার্যকলাপে অংশ নেওয়া থেকে দূরে থাকার আহ্বানও জানানো হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে বন্দর নগরীসহ সমস্ত ঝুঁকিপূর্ণ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যে কোনো মূল্যে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে ও সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।













