আইওয়ায় এগিয়ে গেলেন কমলা হ্যারিস কমলা হ্যারিস যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট। ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে জয়লাভ করলে তিনি হবেন দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। এই ইতিহাস গড়ার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি ও ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি। এমনকি জনমত জরিপে তিনি আইওয়া অঙ্গরাজ্যেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে টপকে গেছেন। তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার ব্যাপারে ‘৯৭ ভাগ নিশ্চিত’। তার পক্ষে এবার আরব-মার্কিন ভোটারদের সমর্থনও বেশি।
২০১৬ সালে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করতে পারেনি মার্কিন ভোটাররা। সেবার রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের চেয়ে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ৩০ লাখের বেশি জনপ্রিয়
ভোট পেয়েছিলেন। কিন্তু সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক ফার্স্ট লেডিকে ইলেকটোরাল কলেজের নিয়মে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে নতুন নাম লেখানো নেতা ট্রাম্প।
বিবিসি গতকাল এক প্রতিবেদনে লিখেছে, কমলার এবার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়াটা বেশ নাটকীয়। ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষ থেকে অনেকটা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন ২০২১ থেকে দায়িত্বে থাকা জো বাইডেন। কমলা তাকেই সমর্থন দেন। কিন্তু প্রথম সরাসরি টেলিভিশন বিতর্কে ট্রাম্পের কাছে ব্যর্থতার পর চাপের মুখে গত জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন বাইডেন। আর নিজ দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে কমলার নাম প্রস্তাব করেন তিনি। সেই হিসেবে মাত্র চার মাস প্রচারণার সময় পেয়েছেন কমলা। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আর কোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর এত কম সময় প্রচার করার নজির নেই।
এরপরও জরিপে বেশ ভালো করছেন কমলা। রয়টার্স গতকাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আইওয়ায় ২০১৬ ও ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সহজ জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু এই অঙ্গরাজ্যে নতুন এক জনমত জরিপে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ট্রাম্পকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছেন কমলা। আইওয়ার ডেজ মইনেস রেজিস্ট্রার/মিডিয়াকম আইওয়ার এই জরিপ পরিচালিত হয় ২৮ থেকে ৩১ অক্টোবর। মোট ৮০৮ জন ভোটার জরিপে অংশ নেন। গত শনিবার জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। জরিপে কমলা ৪৭ শতাংশ ও ট্রাম্প ৪৪ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। এর আগে সেপ্টেম্বরের জরিপে ট্রাম্প ৪ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন।
এদিকে আরব-আমেরিকানদের বড় একটি অংশ এখন ডেমোক্রেটদের ছেড়ে রিপাবলিকানদের পতাকা তলে হাজির হচ্ছেন। গাজা এবং লেবাননে ভয়াবহ ইসরায়েলি নৃশংসতায় বাইডেনের শর্তহীন সমর্থন আরব-মার্কিন মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেককে এতটাই বিচলিত করেছে যে, তারা পরিবর্তনের আশায় ট্রাম্পের পক্ষে সমর্থন জোগাচ্ছেন। মুসলিমবিরোধী ও অভিবাসীবিরোধী বক্তব্যের ইতিহাস সত্ত্বেও ট্রাম্প এই ধরনের অসন্তুষ্ট ভোটারদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত শুক্রবার তিনি ডিয়ারবর্নে কয়েক ডজন আরব আমেরিকানের সাথে দেখা করেছেন।
ট্রাম্প এবার মধ্যপ্রাচ্যে ‘শান্তি’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কীভাবে তিনি এটি অর্জন করবেন এবং তার প্রথম মেয়াদে তিনি যে কট্টর ইসরায়েলপন্থি দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করেছিলেন, তা তিনি পরিবর্তন করবেন কিনা, সে সম্পর্কে অবশ্য বিস্তারিত কিছু বলেননি।













