অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া কেবল ভৌগোলিক স্বাধীনতার মাধ্যমে কোনো দেশের স্বাধীনতা কখনো অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে না। একটি দেশের স্বাধীনতার স্বাদ প্রকৃত অর্থে ভোগ করতে হলে সবার আগে জরুরি অর্থনৈতিক মুক্তি বা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। এ কথা বলতেই হয়, আমাদের দেশটির বয়স তিপ্পান্ন বছর পূর্ণ হলেও এখনো পুরোপুরি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার মুখ দেখেনি। তবে এ পর্যন্ত যতটুকু অর্জিত হয়েছে, তার পেছনে যে কয়টি বিশেষ শ্রেণি রয়েছে, তন্মধ্যে প্রবাসীদের অবদানের কথাটি সবার আগে চলে আসে। প্রবাসীরা কেবল দেশ স্বাধীন হওয়ার পরই দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছে না, বরং ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে তহবিল সংগ্রহ ও স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠন এবং যুদ্ধ শেষে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে।
নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর দেশটি যখন স্বাধীন হলো, কেবল বিশাল জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত একটি ভূখণ্ড ছাড়া আমরা কিছুই পাইনি। পাকিস্তানি হানাদাররা দেশটিকে আর দেশ রাখেনি। একটি ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত করেছিল। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট কিছুই ছিল না। সরকারি অর্থনৈতিক ভান্ডার, খাদ্যশস্যের ভান্ডার ছিল একেবারেই শূন্য। মোট কথা যুদ্ধের কারণে কৃষি, শিল্প, পরিবহণ, বাণিজ্যসহ এমন কোনো খাত নেই, যেখানে এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়েনি। পাকিরা শুধু আমাদের অর্থনৈতিকভাবেই শূন্য করে দেয়নি, বেছে বেছে বুদ্ধিজীবীদের মেরে মেধাশূন্যও করে দিয়েছিল। এমন একটি চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তে সিংহভাগ নিরক্ষর মানুষের একটি দেশকে পুনর্গঠন ও ভারত থেকে ফিরে আসা এক কোটি শরণার্থীর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া মোটেই সহজ কাজ ছিল না। এমন একটি কঠিন কাজকেই ভালোবেসেছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।













