নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের ওপর হামলাকারী হেলমেটধারীদের মাত্র সাতদিনের মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অথচ প্রায় তিন মাস আগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হেলমেটধারী হামলাকারীরা এখনো ধরা পড়েনি।
মঙ্গলবার রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলামকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল।
বেসরকারি টেলিভিশনের একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ৫ আগস্ট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার হেলমেট পরে যারা হামলা করেছিল, তাদের কেন এখনো গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না?
সিটিটিসি প্রধানকে উদ্দেশ্য করে ওই সাংবাদিক বলেন, এক সপ্তাহ আগে নয়াপল্টনে যারা হেলমেট পরে মুখ ঢেকে নাশকতা করেছে তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের সক্ষমতা দেখানোর জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। তবে চলতি বছর ৫ আগস্ট একই ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে সাংবাদিকদের হেলমেট পরে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে কয়েকজন যুবক। তাদের কেন ধরা হচ্ছে না? নাকি পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে দেখে এদের ধরা হয়েছে, কিন্তু সাংবাদিকদের ওপর হামলা হওয়ায় ওদের ব্যাপারে পুলিশ আগ্রহ দেখাচ্ছে না?
জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা (পুলিশ) ফৌজদারি অপরাধকে অপরাধ হিসেবেই দেখি। এ ঘটনার তদন্ত চলছে, দোষীদের গ্রেপ্তার করা হবে।
চলতি বছরের ৫ আগস্ট নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় রাজধানীর সিটি কলেজের সামনে হেলমেট ও মুখে কাপড় বেঁধে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় কয়েকজন যুবক। সেসময় সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, ওই যুবকরা ছাত্রলীগের ঢাকা কলেজ শাখার কর্মী।
হামলায় বার্তা সংস্থা এপির ফটোসাংবাদিক এএম আহাদ, জনকণ্ঠের জাওয়াদ, বণিক বার্তার পলাশ, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আহমেদ দীপ্তসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
এ ঘটনার পর থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো মামলা না নেয়া হলেও বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করেন।
এদিকে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মধ্যেই গত বুধবার ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানসহ দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেয়া হয়।
এই ঘটনায় পুলিশ এক সপ্তাহের মধ্যে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।













