অর্থাভাব ও জীবনের আধুনিক উপকরণ- সবকিছু থেকেই অবহেলিত চা শ্রমিকরা চিকিৎসার ক্ষেত্রেও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
বর্তমান সময়ে যেখানে সব রোগের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা ও ওষুধের পাশাপাশি কীভাবে তারুণ্য ধরে রাখা যায় ও অমরত্বের পথে হাঁটা যায় সেটা নিয়ে ভাবছেন স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী ও সামর্থ্যবান মানুষ, সেখানে আমাদের দেশের চা শ্রমিকদের দেয়া হচ্ছে যে কোনো রোগের ক্ষেত্রে একটিই ওষুধ! না, এটি প্যানাশিয়া বা সর্বরোগের মহৌষধের মতো কোনো বিষয় নয়।
কোনো সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে হাজির হলে দেয়া হচ্ছে একটি ওষুধ। যদিও প্রতিটি চা বাগানে রয়েছে হাসপাতাল। দৈনিক মাত্র ৮৫ টাকা বেতনে কাজ করা দরিদ্র চা-কর্মীরা বাইরে চিকিৎসার জন্যও যেতে পারেন না, সেটাই স্বাভাবিক।
চা-শ্রমিকদের চিকিৎসার করুণ পরিণতির বিষয়টি তুলে ধরা হয় ব্র্যাক-সিডিএমে আয়োজিত ৪র্থ আন্তর্জাতিক জনগণের স্বাস্থ্য সম্মেলন-২০১৮-এর দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত ৫টি উপঅধিবেশনের একটিতে।
আমরা মনে করি, অর্থকরী ফসল উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত একজন শ্রমিকের চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। শ্রেণী, বর্ণ ও সংখ্যালঘু নির্বিশেষে সব দরিদ্র মানুষের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়া উচিত সরকারের।
কেবল যে স্বাস্থ্য-চিকিৎসা খাতেই বঞ্চিত হচ্ছে চা-শ্রমিকরা, তা কিন্তু নয়। অর্থ, সামাজিক মর্যাদা, এমনকি জীবনযাত্রার সব ক্ষেত্রে তাদের বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে। দেশে যেখানে দৈনিক ভিত্তিতেও ৫০০-৭০০ টাকার নিচে কোনো শ্রমিক পাওয়া যায় না, সেখানে একজন চা-শ্রমিকের বেতন ৮৫ টাকা হয় কীভাবে? অথচ দেশে-বিদেশে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে টাকার পাহাড় বানাচ্ছেন চা বাগান মালিকরা।
অন্যদিকে চা বাগান ও চা উৎপাদনের দৃষ্টিনন্দন কাজ দেখে ভ্রমণপিপাসুরা চোখ জুড়ালেও আড়ালে থেকে যাচ্ছে শ্রমিকদের কষ্টের দীর্ঘশ্বাস। চা-কর্মীদের বঞ্চনা দূর ও স্বাস্থ্য-চিকিৎসা, এমনকি তাদের সব সমস্যা সমাধানের জন্য তৈরি পোশাক শিল্পের মতো চা-শ্রমিকদের জন্য সরকারের বেতন কাঠামো ঠিক করে দেয়ার বিকল্প নেই।
পাশাপাশি অন্যান্য সব সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে কিনা, তা-ও নজরদারিতে আনতে হবে। জনসংখ্যার কিছু অংশকে অবহেলার মধ্যে রেখে দেশে সামাজিক সাম্য ও উন্নত জীবনাচরণ যে নিশ্চিত করা যাবে না, তা বলাই বাহুল্য।
চা-শ্রমিকসহ সব ধরনের সংখ্যালঘুদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পুনর্গঠন ও সব ধরনের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকার উদ্যোগ নেবে বলে আমরা আশাবাদী।













