জুলাই সনদ : ইউনূসের প্রতারণা বনাম বিএনপির দূরদর্শিতা

প্রতিবেদক:-

ডেইলি বাংলা বাজার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প‍্যানডোরার বাক্স খুলে দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিএনপির প্রভাবশালী নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ। ইউনূস সরকার কিভাবে নির্বাচন বানচাল করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলেন তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য। নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রোধ করতে বিএনপি যে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছিল, সেটাও জাতি জানল।

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশকে অবৈধ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নির্বাচনের স্বার্থে তাঁরা অনেক কথা সে সময় বলেননি।সংস্কারের ‘বাহানায়’ যদি নির্বাচন হতে না দেয়, সে জন্য তাঁরা সব কিছুতে আপস করে জুলাই জাতীয় সনদেও সই করেছিলেন।

সংস্কার নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপির পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংস্কারের জন্য শ্বেতশুভ্র কেশের আমার কিছু বড় ভাই বুদ্ধিজীবী বিদেশ থেকে অবতরণ করেছিলেন। তাঁরা মাথায় টুকরি ভর্তি করে অলৌকিক কিছু সংস্কার নিয়ে দেশে অবতরণ করলে পরে আমরা সংস্কার কমিশনে আলাপ-আলোচনা করতে করতে এই জুলাই জাতীয় সনদটা প্রণয়ন হয়েছে।’

ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় প্রথম সিদ্ধান্ত হয়েছিল সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সংশোধনের বিষয়ে।সেটা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এখানে বলা হয়, ‘নোট অব ডিসেন্টের’ (ভিন্নমত) বিষয় ছিল না। ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিনই সিদ্ধান্ত হয়, নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই সনদ প্রণীত হবে। নোট অব ডিসেন্টসহই জুলাই সনদ স্বাক্ষর হয়েছে। জুলাই সনদ সইয়ের পর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা হয়েছিল।এটিকে অবৈধ ও সংবিধানবহির্ভূত আদেশ দাবি করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই আদেশ জারির পর বিএনপির স্থায়ী কমিটি গুলশানে সংবাদ সম্মেলন করে অবস্থান তুলে ধরেছিল। তারা বলেছিল, বিএনপি এবং বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলো জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে অন্য কিছু মানতে রাজি নয়। এটার রেকর্ড, ভিডিও আছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল ভেতরে-বাইরে দুই দলের সমর্থনে। একদল ছিল যমুনার অভ্যন্তরে।আরেক দল ছিল ‘যমুনার কিনারে’। তারা এখন বলতে পারে, ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম!’

সালাউদ্দিন আহমদের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইউনূস সরকারের ১৮ মাসের শাসনকালের একটি দৃশ্যপট উন্মোচিত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য বিশ্লেষণের দাবি রাখে। কারণ এই বক্তব্য বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যাবে কারা এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টি করেছিল। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল। ড. ইউনূস প‍্যারিস থেকে দেশে ফিরেই বিমানবন্দরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব কৃতিত্ব ছাত্রদের হাতে তুলে দেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের তার নিয়োগকর্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এর মাধ্যমে ড. ইউনূস জুলাই আন্দোলনের মূল স্পিরিটকেই অস্বীকার করেন। কারণ এই আন্দোলন শুধু কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন ছিল না। এটি ছিল দেশের আপামর জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অধিকার আদায়ের আন্দোলন। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দীর্ঘ ১৭ বছর ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছিল। তাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে  নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছিল। গুম, খুন এবং জেল-জুলুম চালানো হয়েছিল বিরোধী দলের ওপর। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের আগেই ইউনূস সবার আন্দোলন ও ত্যাগ অস্বীকার করে আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকেই বিকৃত করেন। উপদেষ্টামণ্ডলীতে তিনজন ছাত্র প্রতিনিধি রাখার মাধ্যমে ইউনূস সরকার তার নিরপেক্ষ অবস্থান নষ্ট করেন শুরুতেই। ছাত্রদের দিয়ে রাজনৈতিক দল গঠন, তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী প্রশাসনের বিভিন্ন পদে নিয়োগ, মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভিন্নমত দমন করে ড. ইউনূস দেশে মব রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। কিছু লোকজনকে অবাধে দুর্নীতি এবং লুটপাটের সুযোগ করে দিয়ে ইউনূস তার নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন পুরো ১৮ মাস। এই সময় তিনি অনুগত সুশীল, জামায়াত এবং ছাত্রদের ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার নীলনকশা প্রণয়ন করেছিলেন। ক্ষমতায় থেকে বিদেশি প্রভুদের সন্তুষ্ট করে যা খুশি তা-ই করা ছিল ইউনূসের মূলমন্ত্র। আর দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার জন্যই তিনি সংস্কার নাটক মঞ্চস্থ করেছিলেন। তথাকথিত বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে একদিকে যেমন নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দিতে চেষ্টা করেছিলেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় করেছিলেন। 

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন, নারী সংস্কার কমিশন কিংবা জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের মতো কমিশন গঠনের কোনো প্রয়োজনই ছিল না। এটা অন্তর্বর্তী সরকারের কাজও না। এসব রিপোর্ট ইউনূস নিজেই পড়েছেন কি না সন্দেহ আছে। কিন্তু কোটি কোটি টাকার অপচয় করে এসব কমিশন করে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। এরপর ড. ইউনূস নির্বাচন বানচালের জন্য তথাকথিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করেন। যার সভাপতি ছিলেন তিনি নিজে। সাংবাদিকতায় পড়াশোনা করা ব্যক্তিকে করা হয় এই কমিশনের কার্যকরী প্রধান বা কো-চেয়ার। সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে ইউনূস জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে ডিভাইড অ্যান্ড রুল তত্ত্ব প্রয়োগ করে রাজনৈতিক বিভাজন এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, যাতে নির্বাচন না হয়। এই আশা থেকেই ইউনূস বলেছিলেন দেশের মানুষ তাকে আরো ৫০ বছর ক্ষমতায় দেখতে চায়। বাস্তবতা হলো, সেই সময় দেশের মানুষের দমবন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ইউনূস সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, মব সন্ত্রাসের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। তারা একটি নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় ছিল অধীর আগ্রহে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে পরিষ্কার করলেন, বিএনপি এই ফাঁদে পা দেয়নি। এখানেই বিএনপি রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। বিএনপি এবং তার মিত্ররা একদিকে দ্রুত নির্বাচনের জন্য জনমত গঠন করেছে, অন্যদিকে সংলাপ নাটকে সহনশীলতার চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়েছে। বিএনপির রাজনৈতিক বিচক্ষণতার কাছে ইউনূসের কূটকৌশল পরাজিত হয়েছে। ইউনূস ছাত্রদের সংগঠন এনসিপি এবং জামায়াতকে নির্বাচন বিলম্বিত করার পক্ষে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন। এনসিপিকে কিংস পার্টির মর্যাদা দিয়ে আর প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতের পছন্দের লোকজনকে নিয়োগ দিয়ে ইউনূস আসলে এক এগারোর মতো বিএনপিকে মাইনাস করতে চেয়েছিল। আর ইউনূসের এই ষড়যন্ত্রের সহযোগী ছিল এক এগারোর কুশীলব সুশীল সমাজের একটি অংশ। সুশীল সমাজের মুখপত্র দুটি সংবাদপত্র, এক এগারোর সময় যেভাবে ফখরুদ্দীন-মঈনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল ঠিক একইভাবে এবারও তারা ইউনূস সরকারের প্রোপাগান্ডা মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। 

টিআইবি, সিপিডি, সুশাসনের জন্য নাগরিকের মতো সংগঠনের কর্তারা ইউনূসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাস্তবায়নে ভাড়াটে হিসেবে কাজ করে। ইউনূস লুটতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সব আয়োজন সম্পন্ন করেই ফেলেছিলেন। এক-এগারোর অসম্পূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে এই ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। বিএনপি এ সময় একদিকে নির্বাচনের পক্ষে দেশের ভেতরে জনমত সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গণতন্ত্র ও নির্বাচনের প্রয়োজনীতা নিয়ে চলে বিএনপির কূটনৈতিক তৎপরতা। এই দুই প্রচেষ্টার সফলতার কারণে শেষমেশ নির্বাচন দিতে বাধ্য হন ইউনূস। বিএনপি তথাকথিত ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে কৌশলগত অবস্থান নেয়। অন্যদিকে, দেড় বছরের শাসনে ইউনূস সরকারের দুর্নীতি, অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতা দেশে-বিদেশ উন্মোচিত হয়। এভাবেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দেশে আরেকটি এক এগারোর ষড়যন্ত্র রুখে দেয়।

অদিতি করিম : লেখক ও নাট্যকার, ইমেইল : auditekarim@ gmail.com

  • যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি বাতিল বা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে লন্ডনের অবস্থানের প্রতি অসন্তোষের জেরে এই মন্তব্য এসেছে বলে দ্য টেলিগ্রাফের  প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী রেচেল রিভস মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। রেচেল রিভস বলেন, কোনো স্পষ্ট “এক্সিট প্ল্যান” ছাড়া যুদ্ধ শুরু করা একটি বড়…

  • রেফারি ম্যাচ ডাকাতি করেছেন’ বলায় নিষিদ্ধ হতে পারেন রাফিনিয়া

    রেফারি ম্যাচ ডাকাতি করেছেন’ বলায় নিষিদ্ধ হতে পারেন রাফিনিয়া

    চোটের কারণে মাঠের বাইরে রাফিনিয়া। বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান তারকাকে তাই উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ক্লাবের ছিটকে পড়া দর্শক হিসেবে দেখতে হয়েছে।  চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে হারলেও গতকাল রাতে ফিরতি লেগে ২-১ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। কিন্তু দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলে পিছিয়ে থাকায় বার্সার পথচলা থমকে গেছে। আতলেতিকো উঠে গেছে সেমিফাইনালে।…

  • হঠাৎ ইরান গেলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, নেপথ্যে কী?

    হঠাৎ ইরান গেলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, নেপথ্যে কী?

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ফের আলোচনা শুরু করার বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে অংশ নিতে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বুধবার তিনি তেহরানে পৌঁছেছেন। ইরানের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরানে…

  • বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় তারেক রহমান

    বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় তারেক রহমান

    বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনের প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার ২০২৬ সালের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে টাইম। ম্যাগাজিনে তারেক রহমানকে নিয়ে মুখবন্ধটি লিখেছেন টাইমের সিঙ্গাপুর ব্যুরো অফিসের সম্পাদক ও ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞ চার্লি ক্যাম্পবেল। তালিকাটি সাধারণত বিশ্বের রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও…

  • লোককবি ফকির মহব্বত শাহ

    লোককবি ফকির মহব্বত শাহ

    লোককবি ফকির মহব্বত শাহজামিল জাহাঙ্গীর🇧🇩♥️🇧🇩লোক গবেষক, কবি ও গীতিকার ফকির মহব্বত শাহ—যিনি মনু মহব্বত নামে কবিতা লিখতেন—বৃহত্তর নোয়াখালীর লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একনিষ্ঠ সাধক ছিলেন। ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল তিনি চিরকালের ঠিকানায় পাড়ি জমান। গতকাল ছিল তাঁর দ্বিতীয় প্রয়াণবার্ষিকী—এক নীরব স্মরণ, এক অপূর্ণ দায়ের প্রতিধ্বনি। জনতা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শেষ করলেও তাঁর প্রকৃত…

  • চুক্তি হতে হতে ভাঙল, শেষ মুহূর্তে কী ঘটল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকে

    চুক্তি হতে হতে ভাঙল, শেষ মুহূর্তে কী ঘটল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকে

    ইসলামাবাদে দীর্ঘ আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়নি, তবে কয়েকটি বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে এখনো ২ থেকে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। তিনি বলেন, ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া সংঘাতের পর এই আলোচনা…

  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কা

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কা

     অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিত করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে বিচার বিভাগের কাঠামো ও স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আইনজ্ঞদের আশঙ্কা, এর ফলে বিচার বিভাগ আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে এবং…

  • পরিকল্পিত হামলায়   পীর শামিম রেজাকে  হত্যা, ভাঙচুর-দরবারে আগুন

    পরিকল্পিত হামলায় পীর শামিম রেজাকে হত্যা, ভাঙচুর-দরবারে আগুন

    পরিকল্পিত হামলায় পীর শামিম রেজাকে হত্যা, ভাঙচুর-দরবারে আগুন। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় নামক স্থানে গড়ে ওঠা কথিত এক পীরের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আস্তানার প্রধান আব্দুর রহমান ওরফে শামিম (৬০) নিহত হয়েছেন। এসময় আরও ৩ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে…

  • মহান একুশে বইমেলায়  অংশ নিবে না ৩৫০ প্রকাশনী : বাংলা একাডেমীর ডি. জি’র পদত্যাগ চায়   ‘প্রকাশক ঐক্য’

    মহান একুশে বইমেলায় অংশ নিবে না ৩৫০ প্রকাশনী : বাংলা একাডেমীর ডি. জি’র পদত্যাগ চায় ‘প্রকাশক ঐক্য’

    মহান একুশে বইমেলায় অংশ নিবে না ৩৫০ প্রকাশনী। বাংলা একাডেমীর ডি. জি’র পদত্যাগ চায় ‘প্রকাশক ঐক্য’। বাংলা একাডেমীর চরম অব্যবস্থাপনা ও বৈষম্য অনেক বছর ধরে চলছে। নানাবিধ অনিয়ম ও অযোগ্যতার কারণে এই অচল অবস্থা। বাংলা ভাষার উন্নয়নের জন্য বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা হয়। বইমেলার মতো বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড নিয়ে চরম ব্যস্ত থাকে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা । ফলঃত…

  • জনগণের মনে শান্তি-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

    জনগণের মনে শান্তি-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই বিএনপি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।  তারেক রহমান বলেন, শুরুতেই মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছি। তাঁবেদার মুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে, জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি নতুন সরকার…

  • আফরোজা খানম রিতার বিপুল বিজয়ের  কারণ সততা, সক্রিয়তা ও পিতার উত্তরাধিকার

    আফরোজা খানম রিতার বিপুল বিজয়ের কারণ সততা, সক্রিয়তা ও পিতার উত্তরাধিকার

    আফরোজা খানম রিতার বিপুল বিজয়ের কারণ সততা, সক্রিয়তা ও পিতার উত্তরাধিকার । জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর থেকে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা। এই বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার নেপথ্যে কয়েকটি বিষয়টি নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা নির্বাচনের…

  • তারেক রহমানকে ঐতিহাসিক বিজয়ের শুভেচ্ছা মার্কিন দূতাবাসের

    তারেক রহমানকে ঐতিহাসিক বিজয়ের শুভেচ্ছা মার্কিন দূতাবাসের

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।  আজ শুক্রবার সকাল ৭টা ৪৮ মিনিটে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই শুভেচ্ছা জানানো হয়। ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, ‘একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। বিএনপি এবং তারেক রহমানকে তাদের ঐতিহাসিক…