কয়েক বছর আগেও আমাদের খাবারে একচেটিয়া দখল ছিল ভাতের। কিন্তু বর্তমানে সেটা কিছুটা দখল করে নিয়েছে রুটি। রুটি ও ভাত—উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেউ কেউ ভাত ছাড়া প্রতিটি খাবার অসম্পূর্ণ বলে মনে করেন, আবার কেউ কেউ রুটিকেই একমাত্র তৃপ্তির উৎস বলে মনে করেন।
কিন্তু প্রায়শই মানুষের মনে এই প্রশ্ন জাগে যে, একটি রুটির সমান কত কাপ ভাত এবং এই দুটির মধ্যে কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর।
পুষ্টির দিক থেকে দেখলে, একটি মাঝারি আকারের গমের রুটি প্রায় ৪০ গ্রাম ময়দা দিয়ে তৈরি করা হয়। এতে প্রায় ১২০ ক্যালরি থাকে, যেখানে এক বাটি রান্না করা ভাতে (প্রায় ১০০ গ্রাম) প্রায় ১৩০-১৪০ ক্যালরি থাকে। এর মানে হলো ক্যালরির দিক থেকে একটি রুটি প্রায় আধা কাপ ভাতের সমতুল্য বলে বিবেচিত হতে পারে।
রুটিতে কার্বসের পরিমাণ ভাতের তুলনায় বেশি। কারণ গমে প্রচুর পরিমাণে কার্বস, আয়রন ও প্রোটিন থাকে। এটি ধীরে ধীরে হজম হয়, দীর্ঘ সময় পেট ভরে রাখে। তাই যারা ওজন কমাতে চান বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাদের জন্য রুটি বেশি উপকারী বলে মনে করা হয়।

কচুরিপানার ফুলের অজানা গুণাগুণ
অন্যদিকে, ভাতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে। এটি হালকা এবং সহজেই হজম হয়। এই কারণেই যারা অসুস্থ বা দুর্বল তাদের জন্য এটি সুপারিশ করা হয়। কারণ এটি পেটের ওপর খুব বেশি চাপ দেয় না।
শক্তির কথা বলতে গেলে, উভয়ই কার্বোহাইড্রেটে সমৃদ্ধ।এর অর্থ হলো উভয়ই শরীরকে শক্তি সরবরাহ করে। একমাত্র পার্থক্য হলো ভাতে কম ফাইবার থাকে, আর রুটিতে বেশি থাকে। এই কারণেই রুটি রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে, যেখানে সাদা ভাত দ্রুত চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার জন্য দুপুরের খাবারে রুটি এবং রাতের খাবারে হালকা ভাত খাওয়া ভালো। বিকল্পভাবে, ভাতের পরিবর্তে বাদামি ভাত বা বাজরার রুটি (জোর, বাজরা, বা রাগি) খেতে পারেন।













