ইউক্রেনজুড়ে শনিবার ভোরে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বোমা হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। কয়েক দিন আগে কিয়েভের সাহসী বিমানঘাঁটি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে রাশিয়া এ ব্যাপক হামলা চালাল। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, রাতভর রাশিয়া ২০৬টি ড্রোন ও ৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী হামলা’ চালানো হয়েছে বলে জানান মেয়র ইগর তেরেখোভ। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই শহরটিতে যুদ্ধের আগে ১৪ লাখ মানুষ বাস করত এবং এটি রুশ সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
আরো পড়ুন

রুশ বিমানঘাঁটিতে কিয়েভের হামলার জবাব দিলেন পুতিন?
রুশ হামলায় শহরের বাড়িঘর ও অ্যাপার্টমেন্ট ভবনগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। এতে অন্তত তিনজন নিহত ও আরো ১৭ জন আহত হয়েছে বলে জানান মেয়র।অন্যদিকে খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেগ সিনেগুবভ জানান, আহতদের মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খেরসনে রুশ গোলাবর্ষণে এক দম্পতি নিহত হন এবং দুটি উঁচু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দ্র প্রোকুদিন। দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, ওডেসা ও টারনোপিল অঞ্চলেও হামলা হয়েছে।
পাশাপাশি পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লুতস্কে উদ্ধারকারীরা এক দিন আগের হামলায় দ্বিতীয় একটি মৃতদেহ উদ্ধার করেন।মরদেহটি বিশের কোঠায় থাকা এক নারীর বলে জানানো হয়।
এই বিমান হামলা ইউক্রেনের এক সাহসী অভিযানের কয়েক দিন পরই এলো, যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রের অনেক পেছনে রুশ বিমানঘাঁটিতে পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার ইউক্রেন থেকে ছোড়া ৩৬টি ড্রোন ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মস্কো আক্রমণ চালানোর পর থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে বড় সংঘাত শুরু হয়, যার ফলে পূর্ব ইউক্রেনজুড়ে শহর ও গ্রাম ধ্বংস হয় এবং কোটি কোটি মানুষ নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।













