নিজ বাসায় আশ্রয় দেওয়া এক তরুণীকে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজে বাধ্য করতে গিয়ে তাঁর স্বামীর হাতে খুন হন রাজধানীর হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের উপাধ্যক্ষ মোহাম্মাদ সাইফুর রহমান ভূঁইয়া। এ ঘটনায় জড়িত ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করে এমন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. নাজেম ও তাঁর স্ত্রী রুপা। গতকাল মঙ্গলবার ফরিদপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁদের।ঢাকার মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে এই তথ্য দেন।
মহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার দুজন পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে উপাধ্যক্ষকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এর বাইরে অন্য কোনো কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে কি না তারও তদন্ত চলছে।
তবে পুলিশের এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে নিহত উপাধ্যক্ষের ভাই ও মামলার বাদী লুত্ফর রহমান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে, আমার ভাই অনৈতিক কাজ করতে গিয়ে খুন হয়েছেন।নিশ্চয়ই এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে। আমার ধারণা এর পেছনে বড় কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জড়িত থাকতে পারে। কারণ আমার ভাই অনেক সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত।’
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ডিসি উত্তরা বলেন, সোমবার রাতে উপাধ্যক্ষ সাইফুর রহমান রুপা নামের মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।এ সময় তাঁর স্বামী নাজেমের সঙ্গে তাঁর ঝগড়া-বিবাদ হয়। এক পর্যায়ে নাজেম রান্নাঘর থেকে বঁটি নিয়ে উপাধ্যক্ষকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেন। এরপর হাসপাতালে নেওয়ার পর উপাধ্যক্ষ মারা যান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিভাবে উপাধ্যক্ষের বাসায় গেলেন—জানতে চাইলে পুলিশ বলছে, রমজানের শুরুতে কমলাপুর রেলস্টেশনে নাজেম ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে উপাধ্যক্ষ সাইফুর রহমানের পরিচয় হয়। এরপর দুজনকে উত্তরখানের নিজ বাসায় কাজ দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান তিনি।
তাঁরা বাসা থেকে চলে যাননি কেন—জানতে চাইলে মেয়েটি পুলিশের কাছে দাবি করেন, তাঁদের ওই বাসায় আটকে রাখা হয়েছিল। সাইফুর রহমান ভুঁইয়া দিনের বেলা বাসা থেকে বের হয়ে বাইরে যাওয়ার সময় তালা মেরে যেতেন।
গতকাল শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে উপাধ্যক্ষের লাশ দাফনের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে নেওয়া হয়।













