গরম এলেই উসখুস শুরু হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মুস্তাকিম মানিকের। ছোট থেকেই ঘামাচির যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ এই শিক্ষার্থী। শীতে তাঁর শান্তি। এ জন্য গরম পড়তে শুরু হলেই ভয়ে থাকেন। অতিরিক্ত গরমে প্রচুর ঘাম হয় তাঁর। শরীরে জ্বালাপোড়া ও ঘামাচি তৈরি হয়। ঘামাচি হলে পরনের পোশাকের সঙ্গে ঘষা লেগে জ্বালাপোড়া আরো বাড়ে। এক বান্ধবীর পরামর্শে নিয়মিত ট্যালকম পাউডার ব্যবহার শুরু করেন। এর পর থেকে আর গরমকে ভয় পান না তিনি। এখন মুস্তাকিমের ব্যাগে বইয়ের সঙ্গে একটি পাউডারের কৌটাও থাকে। যখনই প্রয়োজন বোধ করেন, শরীরে পাউডার লাগিয়ে নেন। এতে আর ঘামাচির জ্বালাপোড়া পোহাতে হয় না তাঁকে। মুস্তাকিম মানিকের মতো গরমে ঘাম ও ঘামাচির সমস্যা অনেকেরই পোহাতে হয়। গ্রীষ্মের দাবদাহে শরীরকে প্রশান্ত রাখা খুব জরুরি। এ জন্য শরীরের ভেতর ও বাইরে দুই দিকেই খেয়াল রাখতে হবে। শরীর ভালো রাখতে আমরা নানা খাবার খাই। একেক সময় একেক ধরনের খাবার আমাদের বেশি তৃপ্তি দেয়। গরমে বাঙ্গি, তরমুজ, ডাবের পানি, দই, আখের গুড়, পুদিনাপাতা, ধনেপাতা, কলা, টমেটো, শসা, ক্ষীরা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এগুলো পানিজাতীয় ফল। গরমে ঘামের ফলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। ক্লান্তিবোধ হয় বেশি। এ সময় শরীরে বাড়তি পানির জোগান দিতে হয়। এসব খাবারে থাকা পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, মিনারেল, ভিটামিন, খনিজ উপাদান শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করে। গরমে হিট স্ট্রোকের প্রবণতা অনেক বাড়ে। এ জন্য গরম পরিহার করার চেষ্টা করতে হবে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। বাইরে গেলে সঙ্গে একটি পানির বোতল রাখতে হবে। গরমে ঘামা যাবে না। ঘাম হয় এমন কাজ করা যাবে না। ছায়াযুক্ত ঠাণ্ডা স্থানে থাকতে হবে। রোদে গেলে ছাতা ব্যবহার করতে হবে। ছাতা ব্যবহারে অসুবিধা হলে টুপি বা হ্যাট পরতে হবে। গরমে আরামদায়ক সুতি কাপড়ের পোশাক পরতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, পোশাকটি যেন ঢিলেঢালা হয়। বাতাস যেন চলাচল করতে পারে। হালকা রঙের পোশাক বেছে নিতে হবে। সাদা, ধূসর, সবুজ বা হালকা গোলাপি ও মেরুন রঙের পোশাক এই সময়ে বেশি আরামদায়ক। গরমে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার আরামদায়ক। বাইরে যাওয়ার আগে শরীরে ট্যালকম পাউডার ছিটিয়ে নিয়ে পোশাক পরলে আরাম পাওয়া যাবে। বাইরে গেলে ব্যাগে পাউডার, ছাতা, টিস্যু বা রুমাল ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে, যাতে প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে সব পাওয়া যায়। গরমে বাইরের ধুলা-ময়লা ত্বকে জমে লোমকূপের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঘামের মাধ্যমে শরীরের দূষিত পদার্থ বের হতে পারে না। চুলকানি, ঘামাচি, র্যাশ উঠতে দেখা যায়। এ জন্য বাইরে থেকে ফিরে ভালো করে সাবান দিয়ে গোসল করতে হবে। গোসল শেষে পুনরায় শরীরে ট্যালকম পাউডার লাগালে আরাম ও স্বস্তি মিলবে। এখন নানা ধরনের পাউডার পাওয়া যায়। আপনার ত্বকের সঙ্গে মিলিয়ে পাউডার বেছে নিতে পারেন।

গরমে স্বস্তি পেতে
প্রতিবেদক:-
ডেইলি বাংলা বাজার
–












